Monday, April 22, 2024

মানুষের প্রথম হাঁটা শেখা মাটিতে নয়, বরঞ্চ গাছে!

মানব দ্বিপদবাদ- দুই পায়ে সোজা হয়ে হাঁটা একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য যা হোমো-স্যাপিয়েন্সকে চিহ্নিত করে। গবেষকরা দীর্ঘদিন ধরে এই অনন্য আচরণগত পরিবর্তনের কারণ উদঘাটন করতে আগ্রহী। বনমানুষের মধ্যে একা মানুষই কেন প্রথমে দুই পায়ে হাঁটতে শুরু করেছিল তা এখনও রহস্যই রয়ে গেছে। গবেষকরা ১৩টি প্রাপ্তবয়স্ক শিম্পাঞ্জির অবস্থানগত আচরণগুলি পর্যবেক্ষণ করেছেন।

মানব বিবর্তন গ্রহের সবচেয়ে বড় রহস্যগুলির মধ্যে একটি, এবং এটি এমন একটি ঘটনা যা বিজ্ঞানীমহলে আজও আকর্ষণীয় হয়ে বিষয়। শিম্পাঞ্জিই হলো আমাদের সবচেয়ে কাছের আত্মীয়। সেই সূত্রে গবেষকরা পশ্চিম তানজানিয়ার ইসা উপত্যকায় বসবাসকারী শিম্পাঞ্জি দের ওপর দ্বিপদ বৈশিষ্ট্যের গবেষণা চালায়।

গবেষকরা তাদের গবেষণায় দেখেছেন যে মানুষ হয়তো মাটিতে দুই পায়ে হাঁটতে শেখেনি। তার পরিবর্তে, তাদের সোজা হাঁটা বিকশিত হয়েছিল গাছে। মানব দ্বিপদবাদ অর্থাৎ দুই পায়ে সোজা হয়ে হাঁটা হোমো সেপিয়েন্সদের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য যা আমাদের গ্রহের অন্যান্য জীবিত প্রাণী থেকে আমাদের আলাদা করে। গবেষকরা দীর্ঘকাল ধরে এই হোমো-স্যাপিয়েন্সদের অনন্য আচরণগত পরিবর্তনের পাঠোদ্ধার করতে আগ্রহী।

সায়েন্স অ্যাডভান্সেস জার্নালে প্রকাশিত একটি রিপোর্টে, গবেষকরা পূর্ব আফ্রিকান রিফ্ট ভ্যালি অঞ্চলের মধ্যে পশ্চিম তানজানিয়ার ইসা উপত্যকায় বসবাসকারী বন্য শিম্পাঞ্জিদের আচরণগুলি অন্বেষণ করেছেন। শিম্পাঞ্জিদের বাসস্থান আমাদের প্রথমতম মানব পূর্বপুরুষদের অনুরূপ। সাভানা-মোজাইক অঞ্চলের ঘন বন এবং শুকনো খোলা জমির মিশ্রনের মধ্যে দ্বিপদবাদকে উত্সাহিত করতে শিম্পাঞ্জিরা কোন অঞ্চল বেছে নেয় সেই রহস্যের উদঘাটন করতেই এই গবেষণা করা হয়েছিল।

ইসা শিম্পাঞ্জিদের মাটিতে কাটানো সময়ের জন্য স্থানীয় আবাসস্থলগুলি দায়ী কিনা তা খুঁজে বের করা এই গবেষণার অন্যতম লক্ষ্য। গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন যে ইসা শিম্পাঞ্জিরা খোলা আবাস সত্ত্বেও ঘন বনে বসবাসকারী অন্যান্য শিম্পাঞ্জিদের মতো বেশিরভাগ সময় গাছে কাটায়। অর্থাৎ প্রত্যাশা অনুযায়ী শিম্পাঞ্জিদের অবস্থান খুব বেশী ভূমি-ভিত্তিক ছিল না। এই অনুসন্ধানগুলি দীর্ঘকাল ধরে প্রচলিত তত্ত্বের বিরোধিতা করে। এই গবেষণায় দেখা গেছে যে প্রাচীন মানুষ গাছের মধ্যে ঘোরাঘুরি করার জন্য দুই পায়ে হাঁটার বিবর্তন ঘটেছে।

গবেষনা অনুযায়ী, আজ থেকে প্রায় পাঁচ মিলিয়ন বছর আগে মায়োসিন-প্লিওসিন যুগের শেষের দিকে বনের পশ্চাদপ্রসরণ এবং আরও উন্মুক্ত সাভানার আবাসস্থলগুলি আসলে দ্বিপদবাদের বিবর্তনের জন্য একটি অনুঘটক ছিল না। এই স্টাডির সহ-লেখক ডা:অ্যালেক্স পিল বলেন, খাদ্য উৎপাদনকারী গাছের সন্ধানের জন্যই দ্বিপদবাদ বৈশিষ্ট্যটির সম্ভাব্য বিকাশ ঘটেছে।

গবেষক দলটির, গবেষণার অংশ হিসাবে, ১৩ টি প্রাপ্তবয়স্ক শিম্পাঞ্জির মধ্যে অবস্থানগত আচরণের ১৩,৭০০ টিরও বেশি তাৎক্ষণিক উপসর্গ পর্যবেক্ষণ করেছে, যার মধ্যে পৃথক লোকোমোটর ইভেন্টগুলির মধ্যে প্রায় ২,৮৫০টি আচরণ পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। ১৫-মাস-ব্যাপী গবেষণায় দলটি শিম্পাঞ্জিদের গাছ/জমি-ভিত্তিক আচরণ এবং গাছপালা (বন বনাম বনভূমি) মধ্যে সম্পর্কের ধরণগুলি তদন্ত করে দেখেছে।

গবেষকরা অবশ্য বলছেন, বনমানুষের মধ্যে একা মানুষ কেন প্রথমে দুই পায়ে হাঁটতে শুরু করেছিল তা এখনও রহস্যই রয়ে গেছে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Stay Connected

3,541FansLike
3,210FollowersFollow
2,141FollowersFollow
2,034SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles