একদিকে বামপন্থী শ্রমিক সংগঠনের ডাকে ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দিনব্যাপী শিল্প ধর্মঘট, অন্যদিকে পরীক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক ভূমিকায় বামপন্থী ছাত্র সংগঠন—এই দুই বিপরীত চিত্রই ধরা পড়ল পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান জেলায়।
সারা দেশ জুড়ে সাধারণ ধর্মঘটের ডাক থাকলেও পশ্চিমবঙ্গে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা চলার কারণে গণপরিবহণ ব্যবস্থা সহ শিক্ষা-সংক্রান্ত সমস্ত পরিষেবাকে ধর্মঘটের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। প্রায় এক মাস আগেই এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছিল বামপন্থী শ্রমিক সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে।
এরই মধ্যে বুধবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিনে বর্ধমান শহর, কাটোয়া সহ পূর্ব বর্ধমান জেলার বিভিন্ন প্রান্তে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এসএফআই-এর পক্ষ থেকে জেলার ২০টিরও বেশি স্থানে পরীক্ষাকেন্দ্রের সামনে হেল্প ডেস্ক খোলা হয়। পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে পেন বিতরণ, পরীক্ষার কক্ষ খুঁজে পেতে সহায়তা, দূর থেকে আসা পড়ুয়াদের দিশা দেখানো, জল ও হালকা খাবারের ব্যবস্থা—সব মিলিয়ে নানা পরিষেবার মধ্য দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় সংগঠনের কর্মীরা।
নতুন স্কুলে পরীক্ষা দিতে এসে অনেক পরীক্ষার্থী বিভ্রান্ত হয়ে পড়লেও এসএফআই কর্মীরা দ্রুত তাদের নির্দিষ্ট পরীক্ষাকক্ষে পৌঁছে দিতে সাহায্য করেন। এতে খুশি হন বহু অভিভাবকও।
অন্যদিকে, একই সময়ে পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনা শহর এবং শিল্পনগরী পশ্চিম বর্ধমান জেলার বিভিন্ন এলাকায় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সামনে বাম শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ধর্মঘটের সমর্থনে পিকেটিং করতে দেখা যায়। তবে ধর্মঘটের সঙ্গে যুক্ত নেতৃবৃন্দ জানান, পরীক্ষার্থীদের যাতে কোনও রকম সমস্যায় পড়তে না হয়, সে বিষয়ে তাঁরা যথেষ্ট সচেতন।
এই দুই ভিন্ন চিত্র জনমনে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
এ প্রসঙ্গে এসএফআই-এর জেলা নেতৃত্ব উষসী রায় চৌধুরী ও সৌরভ দাস জানান,“আমরা প্রতি বছরই মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের সহযোগিতা করি। দায়িত্ববান ছাত্র সংগঠন হিসেবে এবারও সেই দায়িত্ব পালন করছি। ধর্মঘটের কারণে কোনও পরীক্ষার্থীর সমস্যা হবে না—এই বিষয়টি অনেক আগেই শ্রমিক সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছে।”
তাঁরা আরও বলেন,“আমাদের অভিভাবক শ্রমিকরা যে দাবি নিয়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন, ছাত্র সমাজ হিসেবে আমরা সেই দাবিকে নৈতিকভাবে সমর্থন করি। কেন্দ্রীয় সরকারের কর্পোরেট বান্ধব নীতি, শিক্ষা ও দেশের বাণিজ্যিকীকরণের বিরুদ্ধে আমরা বরাবরই প্রতিবাদ জানিয়ে আসছি। নতুন শ্রমকোড থেকে শুরু করে বিভিন্ন নীতিই সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করছে।”
তাঁদের বক্তব্য,“পরীক্ষা চলবে নিজের নিয়মে। আর আমরা ছাত্রদের পাশে থেকে সহযোগিতা করার জন্য সারা জেলা জুড়ে এই হেল্প ডেস্ক চালিয়ে যাব।”
শিল্প ধর্মঘটের আবহে একদিকে আন্দোলনের কর্মসূচি, অন্যদিকে পরীক্ষার্থীদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ—এই দুই ভূমিকার মধ্য দিয়ে বামপন্থী ছাত্র ও শ্রমিক সংগঠনগুলি সামাজিক দায়বদ্ধতার এক ভিন্ন দৃষ্টান্ত তুলে ধরল বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।


