এবার বর্ধমান দক্ষিণ কেন্দ্রের সিপিআই(এম) প্রার্থী হিসেবে পেশায় শিক্ষক সুদীপ্ত গুপ্তের নাম ঘোষণা হয়েছে। আর নাম প্রকাশ হওয়ার দিন থেকেই তাঁর প্রচার প্রস্তুতি তুঙ্গে। এদিন সেই প্রচারেরই অংশ হিসেবে দেখা গেল এক ভিন্ন চিত্র।
বর্তমানে প্রায়ই ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক নিয়ে নানা বিরূপ চিত্র উঠে আসে, প্রশ্ন ওঠে তাদের সম্পর্কের প্রকৃতি নিয়ে। ঠিক সেই সময়ে রবিবাসরীয় প্রচারে ধরা পড়ল এক অন্য ছবি—যেখানে পেশায় শিক্ষক সুদীপ্ত গুপ্তের সমর্থনে তাঁরই ছাত্রসম এসএফআই ও ডিওয়াইএফআই-এর কর্মীরা দেওয়াল লিখতে ব্যস্ত।
ছাত্র-যুবরা কি রাজনীতি থেকে বিমুখ? নতুন প্রজন্ম কি বিরাজনীতির শিকার? এইসব অভিযোগকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখাল এদিনের এই দৃশ্য।
শুধু তাই নয়, রবিবাসরীয় দেওয়াল লিখনের মাঠে তুলি হাতে যেমন এসএফআই-এর বর্তমান ও প্রাক্তন জেলা সম্পাদক অনির্বাণ ও উষসীকে দেখা গেল, তেমনই দেখা মিলল সুদীপ্ত গুপ্তের সহকর্মী ভূগোল শিক্ষক মন্টু দে-র, যিনি আবার এসএফআই-এর প্রাক্তনী। একই সঙ্গে দেওয়ালে তুলি চালাতে দেখা গেল বর্ধমান শহর এসএফআই-এর সভাপতি সৌরভ দাসকে।
সৌরভ দাস ও মান্তু দে-র মধ্যে রয়েছে শিক্ষক-ছাত্রের সম্পর্ক। সৌরভ দাস দশম শ্রেণী পর্যন্ত স্কুলে মান্তু দে-র কাছেই ভূগোল পড়েছেন। আর আজ সেই শিক্ষক-ছাত্রের যুগলবন্দিতে দেওয়ালে ফুটে উঠছে কাস্তে-হাতুড়ির প্রতীক।
প্রাক্তন ছাত্রনেতা ও বর্তমানে ডিওয়াইএফআই নেতা অনির্বাণ বলেন, “এটাই পশ্চিমবঙ্গের চিরাচরিত চিত্র, যা বারবার দেশ ও বাংলাকে বাঁচানোর প্রশ্নে সামনে এসেছে। স্বাধীনতার আগে ও পরে প্রগতিশীল ছাত্র, যুব ও শিক্ষকদের এই যুগলবন্দি বারবার ধরা পড়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আজ যখন আমাদের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ চরম সংকটের মুখে—শিক্ষকের অভাবে একের পর এক সরকারি স্কুল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, যুবকদের হাতে কাজ নেই, সরকারি নিয়োগ নেই, মা-বোনদের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে, ধর্মীয় বিভাজনের বিষবাষ্প প্রকট—ঠিক তখনই এই অন্ধকার থেকে বাংলাকে বাঁচাতে ছাত্র-যুব-শিক্ষকদের এই ঐক্য অত্যন্ত প্রয়োজন।”
সব মিলিয়ে, এদিন বড় নীলপুর এলাকার অরিজিৎ, দ্বীপ, আশিক, সোমনাথদের সঙ্গে বাম ছাত্র-যুব সংগঠনের প্রাক্তনী বিপ্লব, শৈলেন, রাজেশ, রুশোদের নবীন-প্রবীণের মেলবন্ধনে বর্ধমান দক্ষিণে বামেদের প্রচার নতুন মাত্রা পেল।



