Monday, April 22, 2024

Mohammed Rafi death anniversary: গান গাইতে গাইতে গলা থেকে শুরু হয়েছিল রক্তক্ষরণ, তবু ‌থেমে থাকেননি রফিজি

Mohammed Rafi death anniversary: চলচ্চিত্র জগতে এমন অনেক শিল্পী রয়েছেন যারা অবশ্যই সাধারণ মানুষের নাগাল থেকে অনেক দূরে, তবে তাঁদের শিল্পের মাধ্যমে তাঁরা প্রতিটি হৃদয়ে নিজের স্থান তৈরি করেছেন। এই ধরনের শিল্পীদের মধ্যে এক অতিপরিচিত নাম হল মোহাম্মদ রফি (Mohammed Rafi)। আজও তাঁর গান শুনে শ্রোতারা নিজেদের একাকীত্বকে ভুলে থাকতে পারেন। তাঁর গানগুলি আজও মানুষের ভালো-খারাপ মুহূর্তের সঙ্গী। যদি রফিজির গানগুলি আপনাকে নাচতে বাধ্য করে, তবে একই সঙ্গে তাঁর গানগুলি আপনাকে সাহায্য করবে নিজের হৃদয়ের কথা প্রেমিকাকে জানাতে এবং বিরহে জ্বলতে থাকা প্রেমীদের গল্পও ফুটিয়ে তোলে তাঁর গানগুলি।

মোহাম্মদ রফির কণ্ঠের জাদু এমন ছিল যে আজও তাঁর গান পুরনো বলে মনে হয় না। তাঁর গানগুলি যখনই শোনা হোক না কেন, এগুলি মনকে উৎসাহ দেয় এবং অবসাদ দূর করে সতেজতায় ভরিয়ে দেয়। সুরের জাদুকর মোহাম্মদ রফি ১৯৮০ সালের ৩১ জুলাই এই পৃথিবীকে চিরতরে বিদায় জানিয়েছিলেন। রফিজি নিজেও সঙ্গীতের প্রতি উন্মাদ ছিলেন। সঙ্গীতের প্রতি তাঁর ভালোবাসা তাঁর প্রতিটি গানে প্রতিফলিত হতো।

রফি সাহেবের প্রতিটি গানই স্মরণীয় এবং প্রতিটি গানের পেছনে একটি করে গল্প লুকিয়ে আছে। তবে আজ আমরা তাঁর সেই গানের পেছনের গল্প জানব, যে গানটি গাওয়ার সময় তাঁর গলা থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছিল। এই গল্পটি সঙ্গীত পরিচালক নওশাদের (Naushad) জীবনী ‘নওশাদনামা: দ্য লাইফ অ্যান্ড মিউজিক অফ নওশাদ’এ (Naushadnama: The Life and Music of Naushad) উল্লেখ করা হয়েছে।

১৯৫২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘বৈজু বাওরা’ (Baiju Bawra) ছবিতে ‘ও দুনিয়া কে রাখওয়ালে‘ (O Duniya Ke Rakhwale) গানটি মোহাম্মদ রফি গেয়েছিলেন। এই গানটি সুপার হিট হয়েছিল, কিন্তু খুব কম মানুষই জানেন যে রফি সাহেব এই গানটির জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন। এই গানের জন্য তিনি অনেক দিন ধরে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে রেওয়াজ করতেন এবং এই গানের জন্য রেওয়াজ করার সময় তাঁকে তাঁর কণ্ঠস্বর খুব উচ্চ স্কেলে রাখতে হতো। অনেক দিনের কঠোর পরিশ্রমের পর অবশেষে এই গানটি সম্পূর্ণ হয়। শোনা যায়, গানটির রেকর্ডিং শেষ হতে হতে মোহাম্মদ রফির গলা থেকে রক্তক্ষরণ হতে শুরু করেছিল। তাঁর গলার অবস্থা খুব খারাপ হয়ে গিয়েছিল। তা সত্ত্বেও, তিনি কখনো অভিযোগ করেননি বা নওশাদের কাছে তাঁর সমস্যার কথা বলেননি, যিনি এই ছবির সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন। এই গানটি রেকর্ডিং হয়ে যাওয়ার পর রফিজি বেশ কিছু দিন কোনও গান গাইতে পারেননি।

মোহাম্মদ রফির এই গানটি নিয়ে আরও একটি গল্প আছে, যা নওশাদ (Naushad Ali) একবার একটি অনুষ্ঠানে বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘ও দুনিয়া কে রাখওয়ালে’ (O Duniya Ke Rakhwale) গানটি প্রত্যেক ব্যক্তির হৃদয়ে একটি বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। একদিন একজন বন্দীকে ফাঁসি দেওয়া হচ্ছিল। সেই সময়, যখন তাঁকে তাঁর শেষ ইচ্ছা জিজ্ঞাসা করা হয়, তখন তিনি রাফি সাহেবের এই গানটি শোনার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। এরপর এই গানটি জেল রেকর্ডারে বাজানো হয়েছিল এবং তারপরেই সেই বন্দীকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল।

মোহাম্মদ রফি (Mohammed Rafi) তাঁর কেরিয়ারে ২৫ হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন। এই দুনিয়া ছেড়ে যাওয়ার আগে তিনি সঙ্গীত প্রেমীদের জন্য এই সুন্দর উপহার রেখে গিয়েছিলেন। রফি সাহেব যখন তাঁর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন, তখন মনে হয় গোটা বিশ্ব কেঁদেছিল। ৩১ জুলাই, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং চিরতরে এই পৃথিবীকে বিদায় জানান। সেদিন প্রচুর বৃষ্টি হয়েছিল। তবুও রফি সাহেবের শেষ যাত্রায় ১০ হাজারেরও বেশি লোক অংশ নিয়েছিলেন, এমনই বলা হয়।

আরও পড়ুন

সোনু কণ্ঠের সম্রাট হলেও তাঁর জীবন বিতর্কের সঙ্গে জড়িত, জেনে নিন তাঁর কোন কোন মন্তব্যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Stay Connected

3,541FansLike
3,210FollowersFollow
2,141FollowersFollow
2,034SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles